বিশ্বের সবথেকে গভীরতম কন্টেইনারবাহী সমুদ্রবন্দরের ড্রাফট / গভীরতা

শেয়ার করুন

বিশ্বের সবথেকে গভীরতম কন্টেইনারবাহী সমুদ্রবন্দরের ড্রাফট / গভীরতা

১. সাংহাই বন্দর
বর্তমানে সারা বিশ্বে সবথেকে বৃহৎ এবং ব্যাস্ততম বন্দরের ভেতর ১ নাম্বারে রয়েছে চীনের সাংহাই সমুদ্র বন্দর।

এই বন্দর হল বিশ্বের সবথেকে বড় ডিপ ওয়াটার টার্মিনাল যা ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ২০ মিটার ড্রাফট। এটাতে ১৯ টি টার্মিনাল এবং ১২৫ টি ডক রয়েছে। ২০১৮ সালে বিশ্বের সর্বোচ্চ ৪২.১ মিলিয়ন টিইইউ বহন করে এই বন্দর।

২. সিঙ্গাপুর বন্দর

বিশ্বের দ্বিতীয় ব্যাস্ততম বন্দর হল সিঙ্গাপুর বন্দর। এই বন্দরের ড্রাফট বা গভীরতা ১৫.৭ মিটার যেখানে সর্বোচ্চ ১,৫০,০০০ DWT এর জাহাজ ভীড়তে পারে। এই বন্দরে ৩৬.৬০ মিলিয়ন টিইইউ কন্টেইনার বহন করে ২০১৮ সালে।

৩. সেনঝেন বন্দর

এই বন্দরে সর্বোচ্চ ২৬০ মিটার লম্বার দানবাকৃতির জাহাজ ভীড়তে সক্ষম যার গভীরতা ১৪.৫ মিটার। সর্বোচ্চ কন্টেইনার বহন ক্ষমতা ১,০০,০০০ DWT। ২০১৮ সালে এই বন্দরে ২৭.৭৪ মিলিয়ন কন্টেইনার বহন করে।

৪. লাংবো-ঝাওশেন বন্দর চীন

বিশ্বের ব্যাস্ততম বন্দরের তালিকায় এই বন্দরের অবস্থান চতুর্থ। এই বন্দরের জাহাজ নোঙরের সীমাবদ্ধতা ২২ মিটার ড্রাফট পর্যন্ত। এই বন্দরে ৩,০০,০০০ DWT এর জাহাজ ভীড়তে সক্ষম। ২০১৮ সালে এই বন্দর ২৬.৩৫ মিলিয়ন কন্টেইনার হ্যান্ডেল করে।

৫. বুসান বন্দর, দক্ষিণ কোরিয়া।

বিশ্বের ব্যাস্ততম বন্দরের তালিকায় বুসানের অবস্থান ৫ম। এখানে হার্বার লিমিটেশন হল সর্বোচ্চ ড্রাফট ১৫ মিটার এবং ১,৪০,০০০ ডেড ওয়েট টনেজের জাহাজ ভীড়তে পারে। ২০১৮ সালে ২১.৬৬ মিলিয়ন কার্গো হ্যান্ডেল করে এই বন্দর।

১০. জেবেল আলি বন্দর, আরব আমিরাত

বিশ্বের ব্যাস্ততম বন্দরের ভেতর ১০ম অবস্থানে আছে জেবেল আলি বন্দর। এই বন্দরের সর্বোচ্চ ড্রাফট ১৫.৫০ মিটার। সর্বোচ্চ ডেজিং এর পর গভীরতা ১৭ মিটার। এখানে ৪১৪ মিটার লম্বা জাহাজ ভীড়তে সক্ষম। ২০১৮ সালে এখানে ১৪.৯৫ মিলিয়ন কন্টেইনার হ্যান্ডেল করা হয়েছে।

২৪. কলোম্বো বন্দর, শ্রীলংকা

বিশ্বের কন্টেইনারবাহী সমুদ্রবন্দরের ভেতর কলোম্বোর অবস্থান ২৪ তম। এর গভীরতা ১৫ মিটার। এই বন্দর ফিয়ে প্রায় ৭ মিলিয়নের বেশি কার্গো হ্যান্ডেল করা হয়।

৩১. মুম্বাই বন্দর, ভারত

এই বন্দরের গভীরতা ১৫ মিটার। এই বন্দর ১২,৫০০ টিইইউ এর জাহাজা ভেড়াতে সক্ষম।

এই অঞ্চলের অন্য গভীর বন্দরের ভেতর রয়েছে শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা যার গভীরতা সর্বোচ্চ ১৭ মিটার। ১ লক্ষ Dwt এর জাহাজ ভীড়তে পারে এখানে।

পাকিস্তানেত গওধর বন্দরের প্রথম ফেইজে গভীরতা ১২.৫ মিটার। যেটা দ্বিতীয় ফেইজে ২০২৯ সাল নাগাত ২০ মিটারে নিয়ে যাওয়া হবে।

বাংলাদেশের গভীর সমুদ্র বন্দর

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নতুন একটা মতবাদ প্রচার হচ্ছে যে বাংলাদেশের গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্প গুলি আসলে গভীর সমুদ্র বন্দর নয়। সাধারনত ১২ মিটারের বেশি ড্রাফট থাকলেই সেটাকে গভীর সমুদ্রবন্দর বিবেচনা করা হয়।

সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভবিষ্যতে তিনটি গভীর সমুদ্রবন্দর আসবে। এগুলা হল মাতারাবাড়ী, পায়রা এবং মিরসরাই বন্দর।

মাতারবাড়ী গভীর সমদ্রবন্দরের ড্রাফট ১৬ মিটার ধরা হলেও জাইকার মতে এখনে ১৮.৭ মিটার ড্রাফট থাকবে। সেই হিসাবে এটি শ্রীলঙ্কার কলোম্বো, হাম্বানটোটা, সিঙাপুর বন্দরের থেকেও বেশি গভীরতা থাকবে। তবে জোয়ারের সময় এই গভীরতা ২২ মিটার ছাড়িয়ে যাবে।

সাধারন ভাবে এখানে ৮,৫০০ টিইইউ এর জাহাজ ভীড়তে পারবে। কিন্তু সমস্যা এখানেই। অনেকেই ভুল বুঝে এটাকে ধরে নিয়েছেন যে এটাই মনে হয় সর্বোচ্চ ক্ষমতা। কিন্তু না। এর জন্যই বিশ্বের অন্য সব বন্দরের গভীরতার হিসাব দেয়া হয়েছে। এখানে চাইলে ১৫,০০০ টিইইউ এর জাহাজ অথবা ৩,০০,০০০ DWT এর জাহাজ ভেড়ানো সম্ভব। কিন্তু এত বিশাল আকারের জাহাজ ভেড়ানো আমাদের প্রয়োজন নেই। আমাদের জন্য বর্তমান ৮,০০০ টিইইউ এর জাহাজ ভেড়াতে পারলেই চলবে। তবে যদি এই বন্দরকে আঞ্চলিক হাবে রুপান্তর করা সম্ভব হয় তবে এখানে আরো বড় জাহাজ ভেড়ানো সম্ভব হবে।

বাংলাদেশের অপর বন্দর পায়রার জন্য রাবনাবাদ চ্যানেলে প্রাথমিক ড্রেজিং এর পর চ্যানেল গভীরতা দাঁড়াবে ১০.৫ মিটার। এতে ৩০০০ টিইইউ এর জাহাজ অথবা ৪০,০০০ Dwt এর বাল্ক ক্যারিয়ার ভীড়তে পারবে। চুড়ান্ত চ্যানেল প্রস্তুতির কজা শুরুর আগে সমীক্ষা করা হচ্ছে। প্রাথমিক ভাবে এই বন্দরকে ১৬ মিটার ড্রাফট বা ৫২ ফিট গভীর করার কথা ছিল। আগামী বছরেই হয়ত এই ব্যপারে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।

ইদানিং কিছু মিডিয়াতে একটি আর্টিকেল ছড়িয়েছে যে ২৫ মিটার গভীরতা না থাকলে সেটাকে গভীর সমুদ্র বন্দর বলা যাবেনা। নতুন প্রজন্মের Panamax জাহাজের কথা বলে দাবি করা হয় যে ২৫ মিটার গভিরতা প্রয়োজন। আসলে ২৫ মিটার গভীরতার বন্দর সারা বিশ্বে ফিজিবল না। বিশ্বের প্রায় সব বন্দরের গভীরতায় এর নীচে।

আর panamax হল ১,২০,০০০ ডেড ওয়েট টনেজ এর জাহাজ যার দৈর্ঘ ৩৬৬ মিটার এবং ড্রাফট ১৫.২ মিটার। এই ধরনের জাহাজা ১৩,০০০ TEU বহন করতে পারে। তাই অনায়াসে এটি বাংলাদেশের মাতারবাড়ী বন্দরে ভীড়তে সক্ষম।


শেয়ার করুন

লিখেছেন: ওয়াসি মাহিন

ওয়াসি মাহিন এর সব লেখা দেখুন →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *