যা যা থাকছে নতুন যুক্ত হতে যাওয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ড্রোনগুলোতে।

শেয়ার করুন

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আজ MALE UAV এর টেন্ডারের কথা ইতোমধ্যেই আমরা জেনেছি। টেন্ডারে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এই এট্যাক ড্রোন কেনার ব্যাপারে বেশ কিছু চাহিদা উল্লেখ করেছে যা দক্ষিণ এশিয়ার জন্য গেম চেন্জার ড্রোন হতে চলেছে। টেকনিক্যাল এবং মিলিটারী পলিটিক্স দু ক্ষেত্রেই এটির প্রভাব পড়তে চলেছে। চলুন জেনে নেয়া যাক টেন্ডার অনুযায়ী সেনাবাহিনী কেমন ড্রোন চায়!!

ANKA S

প্রথমেই উল্লেখ করা হয়েছে সেনাবাহিনী যেকোন আবহাওয়ায় ব্যবহার উপযোগী ISR ( ইন্টেলিজেন্সি, সার্ভ্যাইল্যান্স এন্ড রিকনায়সেন্স) ক্যাপাবিলিটির ড্রোন নিতে ইচ্ছুক যার অপারেশনাল রেডিয়াস হবে ২০০ কিঃমি অব্দি। একসাথে সর্বোচ্চ ১০টি টার্গেট ট্র্যাক করার ক্যাপাবিলিটি থাকা সেনাবাহিনীর বিশেষ চাহিদা। ড্রোনের হার্ডপয়েন্ট কমপক্ষে ২টি বা সর্বোচ্চ ৪টি থাকতে হবে এবং একইসাথে ড্রোনটিতে EW বা ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের সুবিধা থাকতে হবে।

ANKA S

গ্রাউন্ড কন্ট্রোল সিস্টেমের সাহায্যে অপারেটর ম্যাক্সিমাম রেন্জ থেকে রিয়েল টাইম লোকেশন ট্রান্সমিশন পাবেন। থাকবে 3D ম্যাপিং সিস্টেম। সবচেয়ে ভাল বিষয়টি হল এই ড্রোনটি আমাদের প্রথম স্যাটেলাইট BS-1 এর সাথে লিংকআপ করা হবে, সেক্ষেত্রে BS-1 এর আপলিংক এবং ডাউনলিংক এতে সংযুক্ত হবে। আমাদের নিজস্ব স্যাটেলাইটের মাধ্যমে কমিউনিকেশন পরিচালিত হবে বিধায় ড্রোনের সবধরণের তথ্য একেবারে সুরক্ষিত হবে। আমাদের দেশের একই সাথে গরম এবং আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে যাতে ড্রোনের লাইফটাইমে কোন ইফেক্ট না পড়ে সেজন্য পেলোড থেকে শুরু করে কম্পার্টমেন্ট সবকিছু ওয়েদারপ্রুফ ম্যাটারিয়লে সীলড করা হবে। ড্রোনটির অপারেশন লাইফ টাইম কমপক্ষে,৮০০০ ঘন্টা এবং ১,৬০০ ল্যান্ডিং বা অপারেশন ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১৫ বছর হতে হবে। প্রথম ওভারহলিং ইয়ার কমপক্ষে ৫ বছর হবে। মেনটেইনেন্স এবং রিপেয়ারিং এর জন্য ড্রোন সরবরাহকারী দেশের সাথে আলাদা একটি চুক্তি হবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি OSPD ( On the site project development) টিম ড্রোন প্রস্তুতকারী সংস্হার কাছ থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন। এতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৬ জন ড্রোন পাইলট, ৩ জন মেনটেইন্যান্স ইন্জিনিয়ার এবং ৩ জন ইলেকট্রনিকস ইন্জিনিয়ার প্রশিক্ষণ নিবেন।

TB 2

মুলত প্রযুক্তি হস্তান্তর বা TOT এর অধীনে বাংলাদেশেই R&D এর জন্য ড্রোন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রশিক্ষণ নিবেন। পেলোড সেন্সর হিসেবে থাকবে

  • EO camera
  • IR camera
  • Visible light camera
  • Multi censor camera

যেহেতু এটি এট্যাক ড্রোন তাই এতে অবশ্যই মিসাইল বা গাইডেড বোমার ব্যবহার হবে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল মিসাইল। এই ড্রোন ক্রয়ের অধীনে মিসাইল ক্রয়েরও একটি চুক্তি হবে। এক্ষেত্রে এয়ার টু গ্রাউন্ড মিসাইল অবশ্যই থাকবে এবং এর মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ এয়ার টু গ্রাউন্ড মিসাইলের যুগে প্রবেশ করবে। বর্তমানে আমাদের কোনধরণের এয়ার টু গ্রাউন্ড মিসাইল নেই।এক্ষেত্রে কি মিসাইল হবে এবং রেন্জ কতটুকু হবে সেটিও দেখার বিষয়। প্রথমেই বলা হয়েছে ড্রোনটির ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের সক্ষমতা থাকবে।

সেক্ষেত্রে বেশ কিছু EW পড থাকার বিশেষ চাহিদার কথা জানিয়েছে সেনাবাহিনী, যেগুলো হলঃ

  • ELNIT বা ইলেকট্রনিক ইন্টেলিজেন্সি যার ফ্রিকোয়েন্সী রেন্জ গোপনীয় থাকবে।
  • RWR বা রাডার উয়ার্নিং রিসিভার।শত্রুর রাডারে শনাক্ত হওয়া এড়াতে সিস্টেমটি পাইলটকে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করে। ৩৬০° এরিয়াতে 2GHZ থেকে 18 GHZ এর ওয়ার্নিং ফ্রিকোয়েন্সী হবে।
  • COMNIT বা কমিউনিকেশন ইন্টেলিজেন্সি এর ব্যবস্থা থাকবে।
  • কমিউনিকেশন জ্যামার থাকবে যা শত্রুপক্ষের কমিউনিকেশন সিগন্যাল গুলো জ্যাম করে দিতে পারবে।

পাশাপাশি আন্তরক্ষার জন্য চ্যাফ ফ্লেয়ার ডিসপেন্সারের চাহিদাও উল্লেখ করা হয়েছে। চলবে…..

লিখেছেন : আকাশ


শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *