ফ্রান্সের বাংলাদেশ বয়কট কি এতটাই সোজা?আমরাও কি ধৈর্য্যহারা হচ্ছিনা?

শেয়ার করুন

ফ্রান্সের ইউরোপীয় ইউনিয়ন মেম্বার এবং সেদেশের সংসদ সদস্য Virginie joron এবার বাংলাদেশের পোশাক শিল্প বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন এবং যেসব মার্কেটে বাংলাদেশের প্রোডাক্ট আছে সেগুলো বন্ধ করার আহবান দিয়েছেন।

তবে এখানে আশংকার খবর হলো বিশ্বের শতকার ৬৫% বয়কটের ফেসবুক লিখা বাংলাদেশ থেকে আসা।তাহলে প্রশ্ন থেকে যায় সারা বিশ্বের বাকি সকল দেশ কি মাত্র ৩৫% বয়কটের চেষ্টা করেছে।

তবে বাস্তবতা হলো বয়কট ই বড় কথা না,বরং বাংলাদেশের কনজিউম্যার মার্কেটে ১%-৩% প্রোডাক্ট ফ্রান্সের।যদিও তা ফ্রান্স হতে সরাসরি ইম্পোর্টেড না বরং তা সেসব ব্রান্ডের এশিয়া প্যাসিফিক অংশ হতেই নেয়া।

ফ্রান্স বয়কট করা না করা নিয়ে যতটা উচ্চবাক্য হয়েছে তার চেয়ে বেশী হয়েছে দূতাবাস ঘেরাও এর ঘটনায়।এর আগেও আমরা ভ্রমন সতর্কতা জারি,খুব বেশী হলে বয়কটের ঘোষণা কিংবা এর ও বেশী ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারী করতে পারে।যা আমরা এর আগেও বলে এসেছি।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এসাইলাম নেয়া কিংবা মধ্যপ্রাচ্য যেতে গিয়ে ফেরত আশা অনেক বাংলাদেশী নির্দিষ্ট ভেরিফিকেশন শেষে ফ্রান্সে রয়েছে।বর্তমানে তাদের উপরেও “বয়কট বাংলাদেশী” ট্যাগ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।হয়ত দেশে আনার চেষ্টা হতে পারে তবে “আইফেল টাওয়ারে বোমা হামলার হুমকী” এমনকি “ফ্রান্স দুতাবাসে স্প্যামিং মেইল” এসব ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশীদের বিরুদ্ধে ফ্রান্সে মতবাদ স্পষ্ট করছে।প্রতিবাদী হয়ে স্প্যামিং করা বরং সমগ্র ইউরোপে আমাদের সম্মান বিনষ্ট করেছে।কারন স্প্যামিং আর হ্যাকিং একই জিনিস নয়।

অনেকে প্রতিবাদ করতে গিয়ে বলছেন ৩ বিলিয়ন ডলারের গার্মেন্টস শিল্পের নতুন বাজার ফ্রান্স খুজে নিতে পারবেনা।৩ বিলিয়ন ডলার কিছুই না।তবে চীন,ভিয়েতনাম,মিয়ানমার এবং ভারতের মাঝে ভিয়েতনামের বায়াররা ইতোমধ্যে ফ্রান্সের কাছে ভিয়েতনাম আরো খরচে পন্য দিতে পারবে বলে যোগাযোগ করছে বলে খবর বেরিয়েছে।আর নবী করীমের সম্মান আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত।সে ব্যপারটিও আমাদের মনে রাখতে হবে।এ ব্যপারে সহনশীল হওয়ার বিকল্প নেই।

উদ্ভুত ঘটমায় এসব নিয়ে ফ্রান্সের মেম্বার অব পার্লামেন্ট ক্ষেপলেও সমস্যা নেই কারন সে পুরো ফ্রান্সকে রিপ্রেজেন্ট করেনা।তবে নির্বাচনের আগে যদি ফ্রান্স সরকার এটিকে ইস্যু হিসেবে সেদেশের জনগণকে ক্ষেপিয়ে তুলে তবে শুধু RMG ই নয় বেশ কিছু ইস্যুতে উভয় দেশের সম্পর্ক বিপদে পড়তে পারে ।বাংলাদেশ ফ্রান্সের অর্থনৈতিক সম্পর্ক খুবই শক্তিশালী বাংলাদেশের হিসেবে ২০১৭ হিসাব মতে ফ্রান্সে ২.৪ বিলিয়ন ইউরো রপ্তানি করে থাকে বাংলাদেশ ফ্রান্স থেকে আমদানির পরিমাণ ১৯৩ মিলিয়ন ইউরো।

২০১৭ থেকে ২০২০ সালে সে সম্পর্ক আরো এগিয়েছে।নবীর সম্মান নিয়ে ধ্বংসাত্নক কার্যকলাপ পরিহার করে শান্তিপূর্ণ ভাবে ফ্রান্সের প্রতিবাদ হওয়া উচিত।কারন রাষ্ট্রীয়ভাবে কিংবা সামাজিকভাবে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগনের ক্ষোভ নেই।বরং ফ্রান্সের উচিত উদ্ভত পরিস্থিতিতে নবী হযরত মুহম্মদ (সা) নিয়ে করা কটুক্তিকে রাষ্ট্রীয় ব্যাকাপ না দেয়া।ফ্রিডম অব স্পিচের নামে ধর্ম অবমাননা সভ্যগোষ্ঠীর কাজ নয়।আর ফ্রান্সকে তা বুঝতে হবে

যদিও ফ্রান্সের ৫০% জনগন নাস্তিক অর্থাৎ না ধর্মের অধিকারী তবুও ফ্রান্সের উচিত ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ একটি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনাকে পুরো ইসলামবিরোধী ট্যাগ না দেয়া।আর আরব রাষ্ট্রগুলোকে বলার সাহস না হলেও বাংলাদেশকে জড়িয়ে ফেসবুকে ফরাসী পার্লামেন্ট মেম্বারের দেয়া পোস্ট একটি রেসিজম ছাড়া কিছুই নয়।এবং তা ফ্রান্স-বাংলাদেশ সম্পর্কে ভাল কিছু বয়ে আনবেনা।

ফ্রান্স দুতাবাস ঘেরাও এর মত কর্মসূচি ঈদে মিলাদুন্নবীতে দেয়া হলে এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে যদি দুতাবাসে ভাংচুর কিংবা হামলা অথবা মারামারি হয় তবে ফ্রান্স-বাংলাদেশ সম্পর্ক চরমভাবে অবনতি হবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।আমরা যেন ফ্রান্সের “টোপে” পা না দেই,তাই যেন হয় আমাদের মুখ্য চিন্তাধারা।


শেয়ার করুন

লিখেছেন: তানভির জিসান

তানভির জিসান এর সব লেখা দেখুন →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *